We Work Together
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Dui vivamus arcu felis bibendum ut tristique et egestas quis.
ফাউনডেশন সম্পর্কিত
লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউনডেশন ড. কাশীনাথ দাস এবং তাঁর সহধর্মিণী ড. শ্রীমতী লক্ষ্মী দাস প্রতিষ্ঠিত একটি স্বনির্ভর জনহিতকর প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য মানবসেবা ও সমাজকল্যাণ। সহমর্মিতা, সততা এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউনডেশন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা এবং নাগরিক উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পাশে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
এই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর সম্পূর্ণ স্বনির্ভর আর্থিক নীতি। ফাউন্ডেশনের প্রতিটি প্রকল্প, কর্মসূচি এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠাতাদ্বয়ের ব্যক্তিগত উপার্জনের অর্থে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা এবং জনসেবার আদর্শ অটুট রাখতে তাঁরা কখনওই জনসাধারণের কাছ থেকে কোনো অনুদান বা বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ গ্রহণ করেন না।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউনডেশন অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অর্থ সহায়তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অসহায় নারীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন নাগরিক সৌন্দর্যবর্ধনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ফাউনডেশন সমাজকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
"মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা"—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউনডেশন একটি সুস্থ, শিক্ষিত, মানবিক এবং আত্মনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। বিনয়, স্বনির্ভরতা এবং নিঃস্বার্থ জনসেবার আদর্শই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি।
আমাদের প্রতিষ্ঠাতাগণ
লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছেন দুইজন অসাধারণ মানুষ, যাঁদের জীবন মানবসেবা, সহমর্মিতা এবং সমাজকল্যাণের জন্য নিবেদিত।
ড. কাশীনাথ দাস
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি
সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ড. কাশীনাথ দাস সমাজসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। হাওড়ার শানপুর জেলেপাড়ার সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনি নিষ্ঠা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে একজন সম্মানিত সমাজসেবী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস—উচ্চ চিন্তা, সাধারণ জীবনযাপন এবং নিঃস্বার্থ সেবাই একটি উন্নত সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি।
লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি আজও প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালনা করেন। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ এবং নাগরিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর নিরলস অবদান আজও অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে চলেছে।
ড. শ্রীমতী লক্ষ্মী দাস
সহ-প্রতিষ্ঠাতা
ড. শ্রীমতী লক্ষ্মী দাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের প্রতিটি সামাজিক উদ্যোগের অন্যতম প্রধান শক্তি। ড. কাশীনাথ দাসের সহযাত্রী হিসেবে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সমান নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অবদান রেখে চলেছেন।
দু'জনে মিলে তাঁরা এমন এক অনন্য সমাজসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যেখানে প্রতিটি জনহিতকর উদ্যোগ তাঁদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় এবং কোনো প্রকার জনঅনুদান গ্রহণ করা হয় না। "মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা"—এই আদর্শকে ধারণ করে তাঁরা আজও অসহায়, দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে একটি মানবিক, শিক্ষিত ও সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
ড. কাশীনাথ দাসের জীবনযাত্রা
ড. কাশীনাথ দাসের জীবন এক অনন্য প্রেরণার গল্প—যেখানে নিষ্ঠা, বিনয় এবং আজীবন সমাজসেবার অঙ্গীকার একসূত্রে গাঁথা। ১৯৪২ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাওড়া জেলার শান্ত ও মনোরম শানপুর জেলেপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। ধীবর সম্প্রদায়ের একটি নিবিড় পরিবেশে বেড়ে ওঠা ড. কাশীনাথ দাস ছিলেন শ্রী পঞ্চানন দাস ও শ্রীমতী দয়াময়ী দাসের দ্বিতীয় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন কীভাবে তাঁর বাবা মাছের ব্যবসার পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজেও নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। সেই আদর্শই তাঁর মনে সমাজসেবার বীজ রোপণ করে।
তিনি ব্যাঁটরা হাই স্কুল, নরসিংহ দত্ত কলেজ এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রমা চৌধুরীর সান্নিধ্যে তাঁর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা বিকশিত হয়। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তিনি সোমেন মিত্র ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
পরবর্তীকালে তিনি শিবপুর যুব কংগ্রেসের সভাপতি এবং শিবপুর ব্লক কংগ্রেস কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যে তিনি কূটনৈতিক দক্ষতা, সুসংগঠিত নেতৃত্ব এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার মূল্যবোধ অর্জন করেন, যা তাঁর জনসেবার দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ শ্রী অপূর্বলাল মজুমদারের নেতৃত্বে তিনি পশ্চিমবঙ্গ মৎস্যজীবী সমিতি এবং পশ্চিমবঙ্গ তফশিলি জাতি ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ও হাওড়া জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৎস্যজীবীদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জনকল্যাণের স্বার্থে তিনি কিরণময় নন্দ, ভক্তিভূষণ মণ্ডল, স্বদেশ চক্রবর্তী, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এবং আমেদ হোসেনের মতো বিশিষ্ট নেতাদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের সামাজিক কর্মকাণ্ডকে একটি সুসংগঠিত রূপ দিতে ড. কাশীনাথ দাস এবং তাঁর সহধর্মিণী ড. শ্রীমতী লক্ষ্মী দাস প্রতিষ্ঠা করেন লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে তিনি আজও একটি কঠোর নীতি অনুসরণ করেন—ফাউন্ডেশনের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠাতাদ্বয়ের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়। কোনো প্রকার জনঅনুদান বা বাণিজ্যিক সহায়তা গ্রহণ না করে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরভাবে সমাজসেবার এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর আদর্শ ও অঙ্গীকার।
আমাদের প্রভাব
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউনডেশন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ এবং নাগরিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ও অর্থবহ উদ্যোগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে চলেছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিটি উদ্যোগ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়।
স্বাস্থ্যসেবা
স্বাস্থ্যসেবা ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র। ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে ড. কাশীনাথ দাস এবং ড. শ্রীমতী লক্ষ্মী দাস একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এই চিকিৎসাকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন শ্রীমতী লীনা চক্রবর্তী, আইএএস এবং শ্রী আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, আইএএস।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে ফাউনডেশন বেলুড় শ্রমজীবী হাসপাতাল এবং হরিপাল শ্রমজীবী হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে। ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির সময় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়াও ছাত্র সংঘের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫১,০০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতে আলোলিকা ফ্রি মেডিকেল সেন্টার, আড়ুপাড়া মিলন সংঘ এবং রামরাজাতলা নবীন সংঘে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বাবুরচক মানব সেবা আশ্রম এবং সুন্দরবনের দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য সাইকেল ভ্যান অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
‘আলোলিকা’-র সামাজিক দায়িত্ব
ড. কাশীনাথ দাস প্রতিষ্ঠিত ভারত গ্যাসের অন্যতম প্রধান এলপিজি পরিবেশক ‘আলোলিকা’ শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজসেবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুন্দরবন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অসহায় মানুষের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ড. কাশীনাথ দাস এবং ড. লক্ষ্মী দাসের উদ্যোগে।
শিক্ষা
শিক্ষার প্রসার ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ড. কাশীনাথ দাস সফলভাবে সারদাপ্রসাদ বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দয়াময়ী কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করেছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ফাউনডেশনের অবদান ধারাবাহিক। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ব্যাঁটরা রাজলক্ষ্মী বালিকা বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকা এবং ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরির উন্নয়নের জন্য ৭৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। দক্ষিণেশ্বরের আদ্যাপীঠে ৩ লক্ষ টাকার চেক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আসবাবপত্র প্রদান করা হয়। একই ধরনের আসবাবপত্র সুন্দরবনের শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর সোনার কাপ প্রদান করে ফাউনডেশন শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষকে উৎসাহিত করে।
সমাজকল্যাণ ও নাগরিক উন্নয়ন
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে প্রান্তিক মানুষের জন্য প্রতি মাসে ৬০০ টাকা পেনশন প্রদান করা হচ্ছে এবং তাঁদের শেষকৃত্যের জন্য ৫,০০০ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০০ জন নিরক্ষর ও অনগ্রসর নারীকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে ওষুধ কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এর আগে ১৯৯৭ সালে আরাধনা অনাথ আশ্রমে সহায়তা, ২০০০ সালে তৎকালীন মিজোরামের রাজ্যপাল অরুণপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অন্ন ও বস্ত্র বিতরণ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ত্রাণ তহবিলে অনুদান—এসবই ফাউন্ডেশনের দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের অংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিক সৌন্দর্যবর্ধনেও ফাউনডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীর সহযোগিতায় গার্ডেন পার্ক প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং হাওড়া ময়দান চাইল্ড হাসপাতালের নিকটে দুটি পানীয় জলের কুলার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্বও ফাউনডেশন নিজস্ব অর্থায়নে পালন করে চলেছে, যা জনকল্যাণে তাদের অবিচল অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
স্বীকৃতি, আদর্শ ও উত্তরাধিকার
লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের প্রতিটি উদ্যোগের পেছনে রয়েছে মানবতা, সহমর্মিতা এবং নিঃস্বার্থ সেবার এক অটুট দর্শন। ড. কাশীনাথ দাস তাঁর দীর্ঘ সমাজসেবার পথচলায় বহু গুণী মানুষের দিকনির্দেশনা ও আশীর্বাদ লাভ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ শ্রীমতী লীনা চক্রবর্তী, আইএএস-এর প্রতি, যিনি তাঁকে বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী অভয়ানন্দজী (ভারত মহারাজ)-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রেরণা ড. কাশীনাথ দাসের সমাজসেবার আদর্শকে আরও দৃঢ় ও সমৃদ্ধ করেছে।
ড. কাশীনাথ দাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রী বাসুদেব বাগ, আইপিএস (এডিজি), শ্রী স্বরূপ মুখোপাধ্যায়, আইপিএস, এবং শ্রী অহিভূষণ মিশ্র, আইএএস-এর মতো বরিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা ও স্নেহ অর্জন করেছেন। তাঁদের উৎসাহ ও শুভেচ্ছা সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে তাঁর অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সমাজকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. কাশীনাথ দাস এবং ড. শ্রীমতী লক্ষ্মী দাস একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান তাঁদের আজীবন জনসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ অসংখ্য সম্মাননা, পুরস্কার ও পদকে ভূষিত করেছে।
ড. কাশীনাথ দাস এবং ড. লক্ষ্মী দাস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন—"মানুষের সেবাই ঈশ্বরের সেবা।" এই আদর্শই তাঁদের প্রতিটি সামাজিক উদ্যোগের প্রেরণা। কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই তাঁরা আজও নিষ্ঠা, সততা এবং আপসহীন মনোভাব নিয়ে সমাজের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে চলেছেন।
সমাজসেবার পাশাপাশি ড. কাশীনাথ দাস একজন স্বনামধন্য লেখকও। তিনি নিজের জীবন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলা ভাষায় দুটি বই রচনা করেছেন—‘উজান বেয়ে যাই’ এবং ‘সাঁঝের প্রদীপ জ্বেলে’। কলকাতার দে'জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত এই বই দুটি পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে এবং তাঁর জীবনদর্শন ও মানবসেবার আদর্শকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
আজ লক্ষ্মী-কাশী চ্যারিটেবল ফাউনডেশন মানবসেবা, সততা এবং আত্মনিবেদনের এক জীবন্ত উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। প্রতিষ্ঠাতাদের আদর্শ অনুসরণ করে এই ফাউনডেশন ভবিষ্যতেও এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মর্যাদা এবং মানবিক সহায়তা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে।
